চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়কে চলাচলকারী আইদি পরিবহনকে ঘিরে নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে একই নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে একাধিক বাস পরিচালনার অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একই নম্বর প্লেট ব্যবহার করে দুটি বাস যাত্রী পরিবহন করেছে। সম্প্রতি বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর অভিযুক্ত একটি বাস থেকে নম্বর প্লেট খুলে ফেলা হয়। এরপরও বাসটি নম্বর প্লেট ছাড়াই যাত্রী নিয়ে সড়কে চলাচল করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে কুমিল্লা থেকে চাঁদপুরমুখী একটি আইদি পরিবহনের বাস হাজীগঞ্জ অতিক্রম করে। বাসটিকে নম্বর প্লেট ছাড়া চলাচল করতে দেখে অনেকের সন্দেহ সৃষ্টি হয়। পরে অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই বাসটির বিরুদ্ধে আগে অন্য একটি বাসের একই নিবন্ধন নম্বর ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, ব-১১-০৩০৭ নিবন্ধন নম্বরের একটি বাস বৈধ কাগজপত্র নিয়ে নিয়মিত চলাচল করে। তবে একই নম্বর ব্যবহার করে আরও একটি বাস দীর্ঘদিন ধরে একই রুটে যাত্রী পরিবহন করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মধ্যেও নানা আলোচনা চলছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, চাঁদপুর-কুমিল্লা রুটে নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে বেশি বাস পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে অনুমোদন, রুট পারমিট এবং নিবন্ধন সংক্রান্ত নিয়ম মানা হচ্ছে কি না—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে আইদি পরিবহনের ব্যবস্থাপক মনির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি একই নম্বর প্লেট ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বাসটি শুধু পরীক্ষামূলকভাবে গ্যারেজ থেকে বের করা হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে পরীক্ষামূলকভাবে চালানো একটি বাসে যাত্রী পরিবহনের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ তুলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান।
পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একই নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার, নম্বর প্লেটবিহীন অবস্থায় যাত্রী পরিবহন কিংবা অনুমোদনের অতিরিক্ত যানবাহন পরিচালনার মতো অভিযোগ সত্য হলে তা মোটরযান আইন অনুযায়ী গুরুতর অনিয়ম। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।