1. themebikroy@gmail.com : admin :
রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:২৮ পূর্বাহ্ন

বাবুরহাট বাজারে ফুটপাত দখল করে ভাড়া আদায়

সজিব খান
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬
  • ৫৭ বার পঠিত
৬৬

চাঁদপুর শহরতলির অন্যতম বৃহৎ পাইকারি বাণিজ্যকেন্দ্র বাবুরহাট বাজারে সরকারি রাস্তা ভাড়া দিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে বাজারের বিভিন্ন সড়ক ও গলির ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনার ফলে পথচারী, ক্রেতা সাধারণ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। রাস্তা দখল হয়ে সরু হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচলের মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। এছাড়াও অগ্নি নির্বাপণ সহ যোকোন দুর্ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণেও মারাত্মক বেগ পোহাতে হবে। যার ফলে যেকোন বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে বাজারের বিভিন্ন স্থানে রাস্তা দখল করে ব্যাবসা পরিচালিত হলেও তা উচ্ছেদে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে দিন দিন দখলদারিত্ব বেড়েই চলেছে। এ নিয়ে বাজার কমিটির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত বাবুরহাট বাজার চাঁদপুর জেলার অন্যতম বৃহৎ পাইকারি বাজার। এখানে দুই হাজারেরও বেশি দোকান রয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও আশপাশের এলাকার শত শত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী প্রতিদিন পাইকারি পণ্য কিনতে এ বাজারে আসেন। কিন্তু রাস্তা দখলের কারণে বাজারের ভেতরে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে বাজার কমিটির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন খান বলেন, অনেক দোকানদার নিজেদের দোকানের সামনের ফুটপাত দখল করে সেখানে অস্থায়ীভাবে ব্যাবসা পরিচালনার সুযোগ দিচ্ছেন। বিষয়টি সত্যিই দুঃখজনক। আমরা ইতোমধ্যে পৌর প্রশাসককে বিষয়টি অবহিত করেছি।

বাজার কমিটির নেতাদের ভাষ্য, অনেক দোকানদার নিজেদের দোকানের সামনের সরকারি ফুটপাত অন্য ব্যবসায়ীদের কাছে মাসিক বা দৈনিক ভিত্তিতে ভাড়া দিয়ে অর্থ আদায় করছেন। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি জায়গা ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করে তারা অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, মাছ বাজার গলি, কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনের সড়ক, মডেল টাউন-সংলগ্ন রাস্তা, বাবুরহাট স্কুল মার্কেটের সামনে এবং মধ্যবাজার এলাকায় ফুটপাতের অধিকাংশই ব্যবসায়ীদের দখলে। কোথাও কোথাও রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পথচারীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্যস্ত সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে বাজারের ইজারাদার মো. মাসুদ পালোয়ান বলেন, সরকারি ইজারার আওতায় আমরা শুধু হাটের দিন নির্ধারিত ইজারা আদায় করি। অন্যান্য দিনে দোকানের সামনের ফুটপাত ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট দোকানদাররা নিজ দায়িত্বে অর্থ আদায় করেন, যা সরকারি ইজারার আওতাভুক্ত নয়।

এ বিষয়ে কোনো ব্যবসায়ী প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে, পৌর প্রশাসকের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও বাজারে আগত ক্রেতারা অবিলম্বে ফুটপাত দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, সরকারি জায়গা ব্যক্তিগতভাবে ভাড়া দিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে বাজারের শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং জনদুর্ভোগও কমবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম